Monday, June 20, 2016

মীর কাসেম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে মীর কাসেমকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।
প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রিজনভ্যানে করে মীর কাসেমকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর কবির প্রথম আলোকে বলেন, মীর কাসেমকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।
একাত্তরের গুপ্তঘাতক কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম গতকাল রোববার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আবেদন করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেন।
মীর কাসেমের ছেলে আইনজীবী মীর আহমেদ বিন কাসেম জানিয়েছেন, পুনর্বিবেচনার আবেদনে ১৪টি যুক্তি তুলে ধরে তাঁর (মীর কাসেম) খালাস চাওয়া হয়েছে।
মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে গত ৮ মার্চ রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। ৬ জুন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছার পর মীর কাসেমের বিরুদ্ধে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই রাতেই মৃত্যুপরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। পরদিন কাশিমপুর কারাগারে মীর কাসেমকে তা পড়ে শোনানো হয়।
গতকাল আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করায় দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে। এই আবেদন খারিজ হলে শেষ সুযোগ হিসেবে মীর কাসেম রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। তবে প্রাণভিক্ষা না চাইলে কিংবা ওই আবেদন করার পর তা নাকচ হলে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
২০১২ সালের ১৭ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, মীর কাসেমের বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগে তাঁকে ফাঁসির আদেশ ও আটটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর আপিল করেন মীর কাসেম। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ওই আপিলের শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে হত্যার দায়ে মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল রেখে ৮ মার্চ রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। রায়ে আরও ছয়টি অভিযোগে (২, ৩, ৭, ৯, ১০ ও ১৪) তাঁর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। তিনটি অভিযোগ (৪, ৬, ১২) থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়। এর মধ্যে একাত্তরে রঞ্জিত সেন ও টুন্টু দাসকে হত্যার (১২ নম্বর অভিযোগ) দায়ে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

যুবলীগ থেকে বহিষ্কার হলেন সম্রাট-আরমান

অসামাজিক কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে যুব...